ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 13 বার পঠিত

প্রতিকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ না দিতে বিশ্বের সব দেশ, বিশেষ করে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে অংশ নিলে তেহরান তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে।
রেজাই জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ইরান ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা জবাব দেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হবে। এতে সাড়া না দিলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং ওই দেশের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানান তিনি।
ইরানের এ হুঁশিয়ারির মধ্যেই কূটনৈতিক পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে মিসর। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তারা সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় শুরুর ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক চাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা বা ‘লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলোকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’ ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের বড় অংশ চীন কিনে থাকায় বেইজিংয়ের প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছেন, অন্য দেশের ওপর এ ধরনের ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতিও উত্তপ্ত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।
তবে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বিশেষ অনুমতি নিয়ে ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। মিসরের পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর সমাধান খোঁজার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অর্থনৈতিক সংঘাতও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
Posted ৭:১৪ এএম | রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।